সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, টেকনাফে দুই ছেলে আটকের অপেক্ষায়
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই ছেলে মিলে নিজের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন স্থানীয় বাসিন্দা কালা মিয়া, যার বয়স ছিল সত্তর বছর।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, কালা মিয়া ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মেয়ে এলম বাহারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে দুই ছেলে শাকের আলম ও মনির আলমের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বিরোধ চলছিল, যা স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমেও মীমাংসা করা যায়নি। ঘটনার দুই দিন আগে থেকেই দুই ছেলে বাবা কালা মিয়াকে সম্পত্তির জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বড় মেয়ে এলম বাহার জানান, গত রোববার তাঁর ভাই মনিরুল আলম বাবাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখেন। পুরো দিন ধরে বাবাকে খুঁজে না পাওয়ার পর রাত সাড়ে বারোটার দিকে কালা মিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এলম বাহার দৃঢ়ভাবে অভিযোগ করেন যে তাঁর দুই ভাই সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘ঘটনার আগে থেকে দুই ছেলে বাবাকে চাপ দিচ্ছিল। রাতে শুনেছি কালা মিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে, পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মামুন অর রশীদ নিহতের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ছেলে মিলে বাবাকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সম্পত্তি বিরোধ ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনা টেকনাফ এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ রূপ তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ স্থানীয় সালিসেও সমাধান হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন।
অভিযুক্ত দুই ছেলে শাকের আলম ও মনির আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই ঘটনার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
