মেক্সিকোতে শীর্ষ মাদক নেতা এল মেনচোর মৃত্যুতে সহিংসতা, নিহত ২৫ নিরাপত্তাকর্মী
মেক্সিকোতে এল মেনচোর মৃত্যুতে সহিংসতা, নিহত ২৫

মেক্সিকোতে শীর্ষ মাদক নেতার মৃত্যুতে সহিংসতার বিস্ফোরণ

মেক্সিকোর জালিসকো প্রদেশে এক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির শীর্ষ মাদক সন্ত্রাসী এল মেনচোর মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর তাঁর অনুগামীরা ব্যাপক হামলা চালায়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৫ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সহিংসতার বিস্তার ও সরকারি পদক্ষেপ

এল মেনচোর আসল নাম নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস, যিনি জালিসকো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর আটক ও মৃত্যুর পর দেশটির অন্তত ২০টি প্রদেশে বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হয়। মাদক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন শহরে রাস্তায় কাঁটা ও পেরেক বিছিয়ে অবরোধ তৈরি করে, যানবাহনে আগুন দেয় এবং ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে।

এমন পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্দো ত্রেভিলা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে আড়াই হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম দাবি করেছেন, সোমবার সকাল নাগাদ রাস্তা থেকে সব অবরোধ সরানো হয়েছে। তবে জালিসকোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো রাজ্যজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যার ফলে অনেক শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।

নিহত ও আহতের সংখ্যা

সামরিক অভিযানে এল মেনচো ছাড়াও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত এবং তিনজন সেনা সদস্য আহত হন। নিরাপত্তামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় একজন কারারক্ষী, প্রদেশের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের একজন সদস্য এবং এল মেনচোর মাদক চক্রের ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এভাবে মোট নিহতের সংখ্যা ৫০ জনের বেশি ছাড়িয়েছে।

এল মেনচোর আটক ও পটভূমি

এল মেনচো মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ংকর মাদকচক্রের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন এবং দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর একজন প্রেমিকাকে অনুসরণ করে তাঁকে খুঁজে পায়। আটকের সময় বন্দুকযুদ্ধে তিনি আহত হন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা মেক্সিকোতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ের একটি বড় মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, কিন্তু তা সহিংসতার নতুন পর্যায় সৃষ্টি করেছে।

সামগ্রিকভাবে, মেক্সিকোতে এই সহিংসতা দেশটির নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের তীব্রতা তুলে ধরছে এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।