বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি: এক সন্ত্রাসী নিহত
বান্দরবানে সেনাবাহিনী-সন্ত্রাসী গোলাগুলি, নিহত ১

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি: এক সন্ত্রাসী নিহত

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সোমবার বিকালে সেনাবাহিনীর সাথে অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুমা সড়কের মুরুংগো বাজার এলাকার সাইরন ম্রো পাড়ায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল পৌঁছালে পাহাড়ের চূড়া থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এর জবাবে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে, ফলে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে গোলাগুলি চলে। ঘটনাটি বিকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

নিহত ও উদ্ধার কার্যক্রম

এ গোলাগুলিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের এক সদস্য নিহত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত লাশটি উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, তবে দুর্গম ও নেটওয়ার্কবিহীন হওয়ায় সঠিক তথ্য সংগ্রহে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

স্থানীয় ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

তারাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা জানান, সাইরন পাড়ায় সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে, কিন্তু এলাকার দুর্গমতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন। রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর টহল দলের সাথে মুখোমুখি হলে সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি চালায়, এবং সেনাবাহিনীর পাল্টা গুলির পর তারা ফাঁকা গুলি করে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়েছে, এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এ ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষের মতো ঘটনা এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।