আদাবরে কারখানায় সন্ত্রাসী হামলা: পাঁচজন গ্রেপ্তার, দুই শ্রমিক আহত
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত আটটার দিকে মুনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ১২ নম্বর সড়কে অবস্থিত আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় দেশি অস্ত্র নিয়ে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে স্থানীয় সন্ত্রাসী দলের নেতা রোহান খাঁন রাসেল ওরফে কালা রাসেলও রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনার শিকার কারখানার শ্রমিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত পৌনে ১০টার দিকে কাজ শেষে বেতন-ভাতা নিয়ে বের হওয়ার সময় কালা রাসেল ও তাঁর দলের সদস্যরা মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শ্রমিকেরা ভয়ে কারখানায় ফিরে গেলে, আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে প্রবেশ করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় বাধা দিতে গেলে মো. তোফায়েল (২৮) ও হাফিজ আহমেদ (৪৪) নামের দুই কর্মচারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহতদের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও মামলার প্রক্রিয়া
ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যরাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিচার দাবি করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোহান খাঁন রাসেল (৩০), মারুফ (৩৫), হাসান (২৩), মো. রায়হান (২২) ও মো. রোমান (২৪)-কে গ্রেপ্তার করে। কারখানার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় আটজনকে এজাহারনামীয় ও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কালা রাসেল আদাবর থানাধীন সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি ও শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্প বালুর মাঠ এলাকায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করেন। তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। নির্বাচনের পর থেকে তাঁর দলের উৎপাত বেড়েছে, বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মুনসুরাবাদ হাউজিংয়ের এমব্রয়ডারি কারখানা শ্রমিকদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছিনতাই করা হয়। গত শুক্রবার এই কারখানার দুই শ্রমিকের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ছিনতাই করা হয়েছিল।
মালিক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
আবির এমব্রয়ডারি কারখানার মালিক ও আদাবরের এমব্রয়ডারি কারখানা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কালা রাসেল তাঁর কারখানায় চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাই করা হচ্ছিল। গতকাল আবার ছিনতাই করতে এলে শ্রমিকেরা একজোট হয়ে ধাওয়া দেন, যার জেরে হামলা ঘটে। মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ছয় মাস ধরে পুলিশের তৎপরতায় ছিনতাইকারী চক্র নিশ্চুপ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
গ্রেপ্তার আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জেলে আটক রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহান খাঁন রাসেলের নেতৃত্বেই গত রাতে কারখানায় হামলা হয়েছে। এলাকার লোকজন তাঁর গ্রুপের সদস্যদের ভয়ে থাকেন, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
