চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ ইকরাম ও সহযোগী গ্রেফতার, বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ ইকরাম গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ ইকরাম ও সহযোগী গ্রেফতার, বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রামে র‌্যাব ইমতিয়াজ সুলতান ওরফে ইকরাম নামে এক সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিননগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মঙ্গলবার রাতে আরেফিননগর এলাকায় অস্ত্র কেনাবেচার সময় ইমতিয়াজ ইকরামকে একটি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন তার বাসায় আরও অস্ত্র রয়েছে। পরে তার বাসা তল্লাশি করে আরও একটি বিদেশি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইমতিয়াজ ইকরাম চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। তিনি গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনের একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সরোয়ার বাবলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকালে এবং দেশে আস-যাওয়ার সময় তিনি বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেট কল এবং বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করতেন। এছাড়া ‘রিচ কিডস’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি।

সহযোগীর ভূমিকা ও স্ত্রীর অভিযোগ

গ্রেফতার হওয়া অপর ব্যক্তি আবুল কালাম আজাদ ইমতিয়াজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তিনি চাঁদার অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত ইমতিয়াজ ইকরামের স্ত্রী সূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা র‌্যাব তার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, র‌্যাব সদস্যরা তার বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর, কাপড়চোপড় তছনছ করেছে। সূচি বলেন, ‘আমি সিএমপি পুলিশ কমিশনার স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। স্যার ওনারা আমার হ্যাজবেন্ডকে ফাঁসাতে চাচ্ছে। আমার বাসায় কিছু না পেয়ে তারা নিজেরা অস্ত্র নিয়ে এসে আমার বাসার সবকিছু এলোমেলো করে ফেলছে। আমি গর্ভবতী অবস্থায় নড়তেও পারছি না।’

আইনগত পদক্ষেপ ও অতীত রেকর্ড

র‌্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিডিএমএস পর্যালোচনায় ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নাশকতা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। র‌্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।