শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে চোরের ভিডিও
শরীয়তপুর মন্দিরে দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, সিসি ক্যামেরায় ধরা

শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি

শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং বাজারে অবস্থিত জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির পালং হরিসভায় দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার ভোররাতের দিকে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরি সংঘটিত করে। মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

চুরির বিস্তারিত বিবরণ

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ জানান, মন্দিরটি চারদিকে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। শ্যামসুন্দর মন্দির ভবনের সামনে একটি এবং মন্দিরের বারান্দায় আরেকটি দানবাক্স স্থাপিত ছিল। বুধবার ভোররাতে দুই ব্যক্তি সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, 'দুটি দানবাক্সে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা ছিল। ভক্তরা বিভিন্ন সময় মন্দিরে এসে প্রণামি হিসেবে ওই টাকা দানবাক্সে রাখেন। প্রতি দুই মাস অন্তর আমরা দানবাক্স খুলে থাকি।'

সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে চোরের ভিডিও

মন্দিরে মোট ১৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে, যা দিয়ে যাবতীয় কার্যক্রম ভিডিও করা হয়। চুরির ঘটনা ৪টি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হালকা গড়নের দুই ব্যক্তি রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করছে। তাদের মধ্যে একজনের মুখে মাস্ক এবং আরেকজনের মুখে মাফলার প্যাঁচানো ছিল, যা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন, 'আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। চোরদের শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোরদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় তদন্ত চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই ঘটনায় স্থানীয় ভক্ত ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন। শরীয়তপুর জেলার মতো ধর্মীয় স্থানগুলিতে এমন চুরির ঘটনা বিরল নয়, তবে সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে, দ্রুত চোরদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং চুরি করা টাকা উদ্ধার করা যাবে।