শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি
শরীয়তপুর জেলা শহরে অবস্থিত জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোররাতে দুই ব্যক্তি মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরি সংঘটিত করে পালিয়ে যায়। মন্দির পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, চুরি হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা হতে পারে।
চুরির বিস্তারিত বিবরণ
মন্দিরটি শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং বাজারে অবস্থিত এবং এটি পালং হরিসভা নামে পরিচিত। মন্দিরটি চারদিকে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। শ্যামসুন্দর মন্দির ভবনের সামনে একটি দানবাক্স এবং মন্দিরের বারান্দায় আরেকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। ভোররাতে দুই ব্যক্তি সীমানাপ্রাচীর টপকে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং দুটি দানবাক্স ভেঙে ভক্তদের দেওয়া প্রণামি ও দানের টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘ভক্তরা বিভিন্ন সময় মন্দিরে এসে প্রণামি হিসেবে দানবাক্সে টাকা রাখেন। আমরা প্রতি দুই মাস অন্তর দানবাক্স খুলে টাকা সংগ্রহ করি। এবার চুরির আগে দানবাক্সে প্রায় দেড় লাখ টাকা জমা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে চোরের ভিডিও
মন্দিরে মোট ১৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা দিয়ে যাবতীয় কার্যক্রম ভিডিও করা হয়। চুরির ঘটনা ৪টি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হালকা গড়নের দুই ব্যক্তি রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করছে। তাদের মধ্যে একজনের মুখে মাস্ক এবং অন্যজনের মুখে মাফলার প্যাঁচানো ছিল, যা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং চোরদের শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনায় মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং আমরা দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছি।’
মন্দিরের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের তদন্ত
চুরির ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটি সদরের পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এই ঘটনা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে এবং মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। পুলিশ এখন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় মর্মাহত এবং তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মন্দিরটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হওয়ায় এই চুরি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
