টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার, রোহিঙ্গা বলে ধারণা পুলিশের
টেকনাফে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার, রোহিঙ্গা সন্দেহ

টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার: রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী ও মিটাপানিরছড়া সমুদ্রসৈকতের নৌঘাট এলাকা থেকে এক তরুণ ও তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করার পর এই লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে ওই তরুণ-তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালামের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় জেলে জালাল আহমদ বলেন, "সকালে আমি সৈকতে নেমে দেখি, কিছু লোক বালুচরে পড়ে থাকা তরুণ-তরুণীর লাশ ঘিরে রয়েছেন। লাশ দুটি দেখে মনে হচ্ছে না যে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে। অন্য কোথাও দুজনকে হত্যার পর কেউ সমুদ্রসৈকতে লাশ ফেলে গেছে বলে আমার ধারণা।"

পুলিশের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত লাশ দুটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণ-তরুণীকে রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাগরপথে মানব পাচার, মুক্তিপণ আদায়কে কেন্দ্র করে এটি হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। তবে ওই তরুণ-তরুণীর শরীরে জখমের কোনো চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।"

সম্ভাব্য কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ঘটনা টেকনাফ ও কক্সবাজার এলাকায় অপরাধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ এখন নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তদন্ত করছে:

  • লাশ দুটির সঠিক পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ
  • মানব পাচার বা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা যাচাই
  • স্থানীয় সাক্ষীদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ

ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর পুলিশ আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।