কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা: পুলিশের তদন্ত চলছে
কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশু হত্যা, পুলিশ তদন্তে

কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যার নির্মম ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার উত্তর মনিপুর তরফ আলীর বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—তরফ আলীর বড় ছেলে সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী সুখী (৩০), তার ছেলে হোসাইন (৫) এবং তরফ আলীর ছোট ছেলে সৌদি প্রবাসী আবদুস সাত্তারের ছেলে জুবায়েদ (৪)।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহতদের স্বজন তুষি জানান, জহিরুল ইসলাম প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী সুখী একমাত্র সন্তান হোসাইনকে নিয়ে বাড়ির দালান ঘরে বসবাস করতেন। সোমবার রাতে তার দেবরের ছেলে জুবায়েদও জেঠির সঙ্গে ওই ঘরে ঘুমাতে যায়। মঙ্গলবার সকালে অনেক বেলা হলেও জুবায়েদ ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকতে যান তার মা। ঘরের দরজার সামনে গিয়ে তিনি মেঝেতে ছেলের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে সুখী ও তার ছেলে হোসাইনকে খুঁজতে থাকেন। পরে পাশের একটি কক্ষের এক কোণে সুখীর এবং আরেক পাশে তার ছেলে হোসাইনের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এই মর্মান্তিক দৃশ্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং তিনটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনও অস্পষ্ট থাকলেও, পুলিশের তদন্ত আশা জাগাচ্ছে যে শীঘ্রই রহস্যের সমাধান হবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।