কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলাকেটে হত্যা, পুলিশ তদন্তে
কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশু হত্যা, পুলিশ তদন্তে

কুমিল্লার হোমনায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড: প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের উত্তর মণিপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু রয়েছেন, যাদের বয়স চার থেকে পাঁচ বছর।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

নিহতরা হলেন—একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার (৩৫), তাঁদের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন (৪) এবং জহিরুলের ছোট ভাই আবদুস সাত্তারের ছেলে জোবায়ের হোসেন (৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার গভীর রাতে কোনো এক সময় তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে দরজা ও গেট খোলা দেখতে পান। পরে তিনটি পৃথক কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা

খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাপিয়ার কক্ষের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকে মালামাল লুট করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একতলা ওই ভবনের তিনটি কক্ষে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে ছিল।

হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত জানান, হত্যার নেপথ্য কারণ এবং জড়িতদের সনাক্তে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না, তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেশী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘সকালে হঠাৎ খবর পাই তিনজনকে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজা ও গেট খোলা। পরিবারটি খুব ভালো ছিল, কারও তেমন কোনো ঝামেলা ছিলো না। কে বা কারা এই নৃশংস হত্যা করেছে—আমরা ভাবতেই পারছি না।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পাপিয়ার বোন সেলিনা আক্তার। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘কে জানতো খুনিরা বাচ্চাগুলোরেও খুন করবো। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। কারা এই খুনে জড়িত—দ্রুত যেন পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে।’

জহিরুল ও পাপিয়ার সংসারে আরও দুই মেয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে, অন্যজন মাদ্রাসায় পড়ে। মেয়েরা বাড়িতে না থাকায় দেবরের ছেলে জোবায়েরকে নিজ ঘরে রাখতেন পাপিয়া। জোবায়েরের বাবাও প্রবাসে থাকেন।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।