জঙ্গি হামলার সতর্কতায় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
জঙ্গি হামলার সতর্কতায় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগমন ও প্রস্থান— সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনও কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেবিচকের বক্তব্য

বেবিচকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।” যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না— সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ সদর দফতর যে চিঠি দিয়েছে তারই প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না, আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। এরই অংশ বলা যায়।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, “সিকিউরিটি পারসন ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিতে যেন কোনও ঘাটতি না হয় সেজন্যও আমরা বলেছি। শাহজালাল বিমানবন্দরের নানা স্থানে এন্ট্রি পয়েন্ট— সেগুলোতেও নিরাপত্তা ঘাটতি যেন না থাকে তার জন্য বলা হয়েছে।” কোথাও কোনও ধরনের অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে দ্রুততার সঙ্গে সেটি মোকাবিলা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জঙ্গি হামলার সতর্কতা

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার এই সতর্কতা জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।