নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন খুন, তদন্তে দুটি সম্ভাব্য কারণ
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন প্রতিবেশী ও স্বজনেরা, যারা শোকে মুহ্যমান। পুলিশের ধারণা, ডাকাতি অথবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা
গতকাল সোমবার মধ্যরাতে বাহাদুরপুর গ্রামে গৃহবধূ পপি সুলতানা (৩০), তার স্বামী হাবিবুর রহমান (৩৫), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)-কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আজ সকালে তাদের মরদেহ বাড়ির আঙিনায় উদ্ধার করা হয়। নিহত হাবিবুর পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন এবং গতকাল তিনি গরু বিক্রি করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য
নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম মেয়ে, জামাতা ও দুই নাতি-নাতনির মরদেহের পাশে আহাজারি করতে করতে বলেন, "জমির ভাগাভাগি নিয়ে ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে মেরে ফেলছে।" তিনি আরও দাবি করেন, ননদরা দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে নির্যাতন করছিল এবং কয়েক দিন আগে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ জামাইয়ের অভিযোগ নেয়নি।
নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০) বলেন, "আমার ছেলে, বউমা আর দুই নাতিনাতনি রাতে একই ঘরে ঘুমাইছিল। সকালে বাড়ির বাইরের দরজা খোলা দেখে এক প্রতিবেশী চিৎকার করে ওঠে। উঠে দেখি, আঙিনায় বউমার রক্তাক্ত লাশ। আর ঘরের ভেতর ছেলে ও নাতি-নাতনির লাশ।"
পুলিশের তদন্ত ও ধারণা
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করার পর হাবিবুর ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হাবিবুরের স্ত্রী দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির আঙিনায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সবুজ হোসেন (২৫) নামের একজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে, যিনি নিহত হাবিবুরের ভাগনে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতি অথবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে, এমন দুটি বিষয় মাথায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। অনেকে ধারণা করছেন, হাবিবুরের কাছে থাকা গরু বিক্রির টাকা লুট করার জন্যও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং নিয়ামতপুর থানা-পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি পৃথক দল সর্বাত্মকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এবং আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। পুলিশের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস ঘটনায় আতঙ্কিত ও শোকাহত। তারা দ্রুত বিচার কামনা করেছেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



