পল্লবী শিশু হত্যা: সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন
পল্লবী শিশু হত্যা: সোহেল রানার জবানবন্দি আবেদন

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্বেচ্ছায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।

আদালতে হাজির

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করানো হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তাঁকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তাঁরা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ বলছে, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে রাখা ছিল মাথা। আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এ ছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি

ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করা হয়েছে।