সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর আদালতে ক্ষোভ: সুবিচার নেই, বিচার চাই না
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর আদালতে ক্ষোভ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, যেখানে সুবিচার নেই, সেখানে তিনি আর বিচার চান না।

ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন প্রত্যাহার

আজ আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নিয়ে হাজির হন লতিফ সিদ্দিকী। তবে আদালতে এসে তিনি আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন। ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন। লতিফ সিদ্দিকী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারককে বলেন, ‘যেখানে সুবিচার নেই, সেখানে আমি বিচার চাই না। আমি আর এখানে বিচার চাইতে আসতে চাই না। ছয় মাস ধরে ঘুরছি। আমার এখন আনন্দ লাগছে। আমি পিটিশন প্রত্যাহার করছি।’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘সেটা আপনার ব্যাপার, আপনি কী করবেন?’ লতিফ সিদ্দিকী তখন বলেন, আদালত অবমাননাকর কোনো কথা তিনি বলে থাকলে বিচারক যেন ক্ষমা করে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি

গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। সেদিন এক দল ব্যক্তি অনুষ্ঠানে ঢুকে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং আয়োজকদের ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দালাল’ আখ্যা দিয়ে লাঞ্ছিত করে। পুলিশ গিয়ে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে আটক করে। পরদিন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পান লতিফ সিদ্দিকী।

আদালত প্রাঙ্গণে চকলেট বিতরণ

আজ সকাল ১১টায় আদালতে হাজির হন লতিফ সিদ্দিকী। ১১টা ১০ মিনিটের দিকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই আসামিকে তিনি চকলেট খাওয়ান। সোয়া ১১টার দিকে বিচারক তাঁকে ডাক দিলে তিনি সবার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এজলাস ছাড়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের চকলেট এবং ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এ দেশে কি বিচার আছে? বিচার হয় নাকি? বঙ্গবন্ধু গেছে, জিয়া গেছে, এরশাদ গেছে, খালেদা গেছে, হাসিনা গেছে, ইউনূস গেছে। সবাই যায়, কিন্তু নতুন কিছু আসে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন করছিলাম। ৫২–এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বছর দশেক জেল খাটছিলাম। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দোসর আছিলাম। স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছি, পাকিস্তান ভেঙেছি, তার জন্যই আজ এখানে এসেছি।’

আবেদন প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার আনন্দ লাগছে এখন। এখানে এলে আনন্দ পাওয়া যায়, বাংলাদেশের আসল চিত্র অর্থাৎ আইনের শাসন আছে কি না, সেটা দেখা ও বোঝা যায়। একটা অনুভব হয়, উপলব্ধি হয়। সেই অনুভবকে জাগ্রত রাখতেই পিটিশন বাতিলের জন্য বলেছি।’

লতিফ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক পটভূমি

বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন। ওই বছর ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তাঁর সংসদ সদস্যপদের অবসান ঘটে।