মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা উপেক্ষা করে ইরানে পারমাণবিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রোসাটমের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ইরানে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। সংস্থাটির প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাত ও আঞ্চলিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে তাদের কাজ বন্ধ করা হবে না।
বুশেহর প্রকল্পে নতুন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা অব্যাহত
রোসাটম বর্তমানে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ধরে রেখেছে। উল্লেখ্য, এর আগে রোসাটমই বুশেহরে ইরানের প্রথম ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণ করেছিল, যা দেশটির শক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন ইউনিটগুলোর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং কিছু কর্মীকে প্রকল্প এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি ছিল প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা।
প্রায় ৪৫০ জন কর্মী এখনো কাজ করছেন বুশেহরে
রোসাটম প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী এখনো বুশেহর প্রকল্প এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন কর্মী আর্মেনিয়া হয়ে রাশিয়ায় ফিরে গেছেন, যা একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লিখাচেভ বলেন, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক পরিস্থিতিরই একটি অংশ, যা রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতাকে প্রভাবিত করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যত পরিকল্পনা
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইরানে সর্বোচ্চ আটটি পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা শক্তি খাতে তাদের সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।
রোসাটমের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। সংস্থাটি ইরানের সাথে তাদের প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এর প্রভাব ফেলতে পারে।
