ইউরোপের বিরুদ্ধে গিয়ে এশিয়ায় ঝুঁকছে রাশিয়া
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানি সম্পদের সরবরাহ কমিয়ে এশিয়ার দিকে মনোযোগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। মস্কোতে রুশ সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। পুতিনের মতে, ইউরোপ ইতোমধ্যেই রাশিয়ার গ্যাস ও এলএনজি ক্রয়ে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিকল্পনা করছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে।
নতুন বাজার হিসেবে এশিয়াকে নজরে রেখেছে মস্কো
পুতিন জানিয়েছেন, ইউরোপ নিজেই ধীরে ধীরে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদ ত্যাগ করার পথে এগোচ্ছে। তারা রাশিয়ার গ্যাস কেনার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আনতে পারে, যার মধ্যে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও অন্তর্ভুক্ত। এক মাসের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চলে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পুতিন নতুন বাজারের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি বলেন, "এখন নতুন বাজার খুলছে, তাই হয়তো আমাদের জন্য বেশি লাভজনক হবে ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে সেই নতুন বাজারে যাওয়া এবং সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।" তিনি দাবি করেন, তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, বরং এটি একটি চিন্তাভাবনা মাত্র।
সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন
পুতিন সরকারকে রাশিয়ান কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মিলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া সবসময়ই তাদের অংশীদারদের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য তিনি ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ভুল নীতিকে দায়ী করেন।
বিশেষ করে ‘গ্রিন এজেন্ডা’ বা পরিবেশ নীতির অপব্যবহার এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে তার মন্তব্য। পুতিনের এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
