মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ভারতের জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার সহায়তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছে ভারত। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটির পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া, যারা তেল সরবরাহের মাধ্যমে ভারতের ক্ষতি পূরণে প্রস্তুত রয়েছে। একটি শিল্প সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ভারতীয় পানিসীমার অদূরে অবস্থান করছে এবং সেগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতীয় বন্দরে পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে।
জ্বালানি মজুতের সীমিত অবস্থা
ভারত বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত মাত্র ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, যা একটি উদ্বেগজনক অবস্থা নির্দেশ করে। একইভাবে, ভারতের শোধনাগারগুলোতে গ্যাসোলিন এবং এলপিজির মজুতও অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব
শিল্প সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি রুট 'হরমুজ প্রণালী' প্রায় বন্ধ হয়ে আসায় ভারতের জ্বালানি বাজার তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ভারত তার অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়ে গ্রহণ করে থাকে, যা বর্তমানে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতকে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করেছে।
রুশ তেল আমদানির হার পুনরুদ্ধার
শিল্প তথ্য অনুসারে, মার্কিন শুল্ক থেকে রেহাই পেতে নয়াদিল্লির প্রচেষ্টার কারণে গত জানুয়ারি মাসে রুশ তেলের আমদানি দৈনিক প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছিল, যা ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আমদানির হার পুনরায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার বাইরের মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজগুলো মূলত কোথায় যাচ্ছিল তা প্রকাশ করতে সূত্রটি রাজি না হলেও, এটা স্পষ্ট যে সেগুলো ভারতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে এবং শোধনাগারগুলোকে দ্রুত স্বস্তি দেবে।
এই সহায়তা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া-ভারতের এই সহযোগিতা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
