রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে নিন্দা করলেন, ইরানের নেতার হত্যা 'সহিংস লঙ্ঘন'
পুতিন ইরানের নেতার হত্যাকে 'সহিংস লঙ্ঘন' বললেন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে 'সহিংস লঙ্ঘন' বললেন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যাকে 'সহিংস লঙ্ঘন' হিসেবে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন। রবিবার প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

পুতিনের চিঠিতে শোক ও সমর্থন

রাশিয়ার ক্রেমলিন রবিবার একটি চিঠি প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লেখেন। এই চিঠিতে তিনি খামেনেইয়ের হত্যার জন্য গভীর সমবেদনা জানান এবং এই ঘটনাকে 'সহিংসভাবে সকল মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে বর্ণনা করেন।

পুতিন উল্লেখ করেন যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই 'একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হবেন, যিনি রুশ-ইরানী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে বিশাল অবদান রেখেছেন।' তিনি পেজেশকিয়ানকে অনুরোধ করেন যেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিবার, সরকার ও সমগ্র ইরানি জনগণের কাছে তার আন্তরিক সমবেদনা ও সমর্থন পৌঁছে দেওয়া হয়।

রাশিয়ার পূর্ববর্তী অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার আগে রাশিয়া সংযমের আহ্বান জানিয়েছিল। শনিবার রাশিয়া এই হামলাকে 'বিপজ্জনক দুঃসাহসিক কাজ' হিসেবে নিন্দা করে, যা অঞ্চলে 'বিপর্যয়' সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করে।

এছাড়াও শনিবার রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক সের্গেই ল্যাভরভ ইরানের কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচির সাথে টেলিফোনে আলোচনা করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলে যে, এই আলোচনা 'ইরানী পক্ষের উদ্যোগে' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রুশ-ইরানী কৌশলগত অংশীদারিত্ব

২০২৫ সালে রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য সামরিক বিষয়সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা। এই চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। পুতিনের এই বক্তব্য রুশ-ইরানী সম্পর্কের গভীরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাশিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নৈতিক ও আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুতিনের ভাষ্য ইঙ্গিত দেয় যে, রাশিয়া এই ঘটনাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে এবং ইরানের সাথে তার কৌশলগত জোট আরও দৃঢ় করতে পারে।