ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে আনা হয়।
জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
বিকেল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদের এবং সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। বজলুর রশীদ মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে। অপরদিকে মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তবে কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাদের চাপা দেয়। এতে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মরদেহ দেশে ফেরত
বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ ২৬ দিন পর শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিহতদের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
পরিবারের শোক
নিহত বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, 'আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।' নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে ভালো অবস্থায় ছিলেন না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনো অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচবো জানি না।'
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, 'ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।'



