ম্যাকেঞ্জি স্কটের দানশীলতা: এক বছরে বেজোসের সারাজীবনের দান ছাড়িয়ে গেলেন
অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও বিশ্বখ্যাত দানবীর ম্যাকেঞ্জি স্কট বয়স্ক ও ঘরবন্দি মানুষের সহায়তায় নিয়োজিত মার্কিন সংস্থা ‘মিলস অন হুইলস আমেরিকা’-কে সম্পূর্ণ শর্তহীনভাবে ৭ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান প্রদান করেছেন। এই বিশাল অঙ্কের অনুদান সংস্থাটির দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে, যা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য খাবার সরবরাহ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
বয়স্কদের জন্য সময়োপযোগী সহায়তা
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুদান এমন এক সংকটময় সময়ে এসেছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ নাগরিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং প্রায় ৫৬ শতাংশ প্রবীণ একাকীত্বের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা এই একাকীত্বকে একটি ‘জাতীয় মহামারি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ম্যাকেঞ্জি স্কটের এই উদার অনুদান এই সংকট মোকাবিলায় একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দানশীলতার পেছনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ
সম্প্রতি ম্যাকেঞ্জি স্কট অ্যামাজনে তার শেয়ারের পরিমাণ ৪২ শতাংশ হ্রাস করেছেন, যা জেফ বেজোসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তার সবচেয়ে বড় শেয়ার বিক্রির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জনহিতকর কাজের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল। ৫৬ বছর বয়সি এই দানবীর বর্তমানে তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়েল্ড গিভিং’-এর মাধ্যমে ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন, যা তার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দানশীলতার প্রতিফলন।
বৈচিত্র্যময় দানের তালিকা
ম্যাকেঞ্জি স্কটের দানশীলতা কেবল একটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; তার দানের তালিকা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও ব্যাপক। গত সপ্তাহে তিনি মিনেসোটার রেড লেক নেশন কলেজকে ৭ মিলিয়ন ডলার এবং এলিজাবেথ সিটি স্টেট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত কলেজগুলোতে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান প্রদান করেছেন। এছাড়াও:
- আবাসন সমস্যা সমাধানে ‘হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি’-কে ৪৩৬ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন।
- ক্রান্তীয় বন উজাড় রোধে ‘ফরেস্ট, পিপল, ক্লাইমেট’ কোলাবোরেটিভ-কে ৯০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছেন।
- গার্ল স্কাউটস অব ইউএসএ পেয়েছে প্রায় ৮৪.৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান।
বেজোসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
ম্যাকেঞ্জি স্কটের সাম্প্রতিক দানশীলতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। ফোর্বসের তথ্যানুযায়ী, জেফ বেজোস ও তার বর্তমান স্ত্রী লরেন সানচেজ তাদের সারাজীবনে প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। অন্যদিকে, ম্যাকেঞ্জি স্কট কেবল ২০২৫ সালেই ৭.২ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন, যা তার মোট সম্পদের প্রায় ৪৬ শতাংশের সমান। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, স্কট গত কয়েক বছরে তার সাবেক স্বামীর সারাজীবনের দানের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা তার অগ্রাধিকারভিত্তিক ও দ্রুতগতির দানশীলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ম্যাকেঞ্জি স্কটের এই অসাধারণ দানশীলতা শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে। তার এই উদ্যোগ দারিদ্র্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও সামাজিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে টেকসই পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



