হারানো প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ বছর বয়সি ফরাসি নারী, এখন আইসিই কেন্দ্রে বন্দী
৮৬ বছরের ফরাসি নারী হারানো প্রেমে যুক্তরাষ্ট্রে, এখন বন্দী

হারানো প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ বছর বয়সি ফরাসি নারী, এখন আইসিই কেন্দ্রে বন্দী

একটি হারানো প্রেমের গল্প আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে, কিন্তু এর পরিণতি হয়েছে মর্মান্তিক। ৮৬ বছর বয়সি ফরাসি নারী মারি তেরেজ তার যৌবনের প্রেমিকের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কেন্দ্রে বন্দী রয়েছেন। চলতি এপ্রিলের শুরুতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অ্যানিস্টন এলাকা থেকে তাকে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেমের গল্প ও যুক্তরাষ্ট্রে আগমন

মারি তেরেজের জীবনের গল্পটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সেনা বিলির সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল, কিন্তু ১৯৬৬ সালে তারা আলাদা হয়ে যান এবং নিজ নিজ পরিবার গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন পর, ২০১০ সালে আবার তাদের যোগাযোগ হয় এবং ২০২২ সালে নতুন করে সম্পর্ক শুরু করেন। গত বছর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন, এরপর মারি তেরেজ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মারি তেরেজ ২০২৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ৯০ দিনের ভিসার সময়সীমা অতিক্রম করেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি তখন গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, যা তার বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ও আইনি জটিলতা

দুর্ভাগ্যবশত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ তার স্বামী বিলির মৃত্যু হলে মারি তেরেজের অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গ্রিন কার্ড না পাওয়ায় তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার শুনানির আগের দিনই মারি তেরেজকে আটক করা হয়। তার ছেলে অভিযোগ করেছেন, তাকে অপরাধীর মতো হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একটি মানবিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের নান্তেস শহরের বাসিন্দা এই নারী এখন লুইজিয়ানার একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন, এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আলোচনা ও পরিবারের আবেদন

এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে। পরিবারের পক্ষ থেকে জোর দাবি উঠেছে, দ্রুত মারি তেরেজকে মুক্ত করে ফ্রান্সে ফিরিয়ে নেওয়া হোক, যাতে তিনি উপযুক্ত চিকিৎসা ও সহায়তা পেতে পারেন।

এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকারের প্রশ্নেও আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, একজন বৃদ্ধ নারীর প্রতি এমন কঠোর পদক্ষেপ কতটা ন্যায্য, বিশেষ করে যখন তার পেছনে একটি মর্মস্পর্শী প্রেমের ইতিহাস রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি