লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দীপালি আক্তারের স্বজনদের মর্মন্তুদ আহাজারি
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দীপালির স্বজনদের আহাজারি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দীপালি আক্তারের স্বজনদের মর্মন্তুদ আহাজারি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দীপালি আক্তারের স্বজনরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব চর শালেহপুর মুন্সিরচরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বোনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না লাইজু আক্তার

দীপালি আক্তারের ছোট বোন লাইজু আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের মূল অভিভাবক ছিল বড় আপা। সেই আপারে হারাইয়া আমি পাগলের মতো হইয়া গেছি। শেষবারের মতো দেখতে চাই আপার চেহারা। কারে ধরব, কারে কব, কী কইলে কে আইনা দেবে আপার মরদেহ, আমার মাথায় ধরে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার আপার লাশটা আমরা চাই। বড় বড় স্যাররা আইসা সবাই সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু কেউ কয় না, আপারে কবে আই না দেবে।’

হামলার ঘটনা ও সরকারি পদক্ষেপ

গত বুধবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে যে ভবনে দীপালি আক্তার কর্মরত ছিলেন, সেখানে হামলা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রফিক হারিরি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ফরিদপুর প্রবাসীকল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা মরদেহ দেশে আনার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। দূতাবাসের মাধ্যমে লেবাননে যোগাযোগ করেছি। আশা করি, দ্রুত দীপালির মরদেহ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হব।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায় জানান, বাংলাদেশ সরকার লাশ দেশে আনার পর বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে বাড়িতে পাঠানো এবং দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দেবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে। তবে যুদ্ধাবস্থার কারণে লেবানন সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘লেবাননে এখন একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ফ্লাইট এখন সুবিধাজনক নয় যে আমরা এই মুহূর্তে মরদেহ আনতে পারব। আমরা সচেষ্ট আছি। খুব শিগগির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লেবাননে আমাদের মিশন কাজ করছে—কীভাবে নিরাপদে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি।’

স্থানীয় প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ নিহত দীপালির বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০ হাজার টাকা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্যাকেজ শুকনা খাবার তুলে দেন। পরিবারটি রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফরিদপুর প্রবাসীকল্যাণ সেন্টারে আবেদন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে বোনের লাশ দ্রুত দেশে আনা হয়।