লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী বেগমের করুণ জীবনগাঁথা
লেবাননে হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী বেগমের করুণ কাহিনী

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী বেগমের করুণ জীবনগাঁথা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামে আজ শনিবার শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের জ্যেষ্ঠ কন্যা দিপালী বেগম (৩২) লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন, যা তাঁর পরিবার ও সম্প্রদায়কে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।

জীবনের তাগিদে বিদেশ পাড়ি

দিপালী বেগমের ছোট বোন লাইজু বেগমের (২৪) বর্ণনা অনুযায়ী, দিপালী ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে লেবাননে পাড়ি জমান। তিনি পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে বিদেশে কাজ করতে যান, যেখানে তিনি পরিবারের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করেন।

পরিবারের জন্য আত্মত্যাগ

দিপালী বেগম তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন, নিজের বিয়ে না করে ভাইবোনদের বিয়েতে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন। তিনি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, যা তাঁর করুণ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। ৮ এপ্রিল বৈরুতে সংঘটিত একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শোকস্তব্ধ পরিবার ও সম্প্রদায়

দিপালীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও গ্রামবাসী গভীর শোকে নিমজ্জিত। তাঁর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামময় জীবন এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য একটি করুণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনা ফরিদপুর জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে দিপালীর মতো অনেকেই জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাঁর করুণ পরিণতি আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংগ্রামের উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ