পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয়: অনলাইনে রিনিউ করার সম্পূর্ণ গাইড
বিদেশ ভ্রমণ, কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা কিংবা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য নথি। কিন্তু অনেক সময় পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বা শেষের দিকে থাকে, যা নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে করা যায়, যা নাগরিকদের জন্য সহজ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারেন।
পাসপোর্ট রিনিউ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পাসপোর্ট একজন নাগরিকের আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। এটি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা আবেদন, ব্যাংকিং সেবা বা সরকারি কাজ করা প্রায় অসম্ভব। সাধারণত অনেক দেশে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হয়। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বা শেষ হলে দ্রুত নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সমস্যা না হয়।
অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করার ধাপসমূহ
বর্তমানে পাসপোর্ট রিনিউ করতে হলে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয়। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করতে হবে। এরপর ‘অ্যাপ্লাই ফর নিউ পাসপোর্ট’ অপশনে প্রবেশ করে রিনিউ আবেদন শুরু করতে হবে। আবেদনের সময় প্রথমে পাসপোর্ট টাইপ নির্বাচন করতে হয়। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা এবং পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য প্রদান করতে হয়। পুরোনো এমআরপি বা ই-পাসপোর্ট নম্বর দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক তথ্য দেখায়, যা পূরণ করা সহজ করে দেয়।
এরপর ‘আইডি ডকুমেন্ট’ ধাপে গিয়ে রিনিউয়ের কারণ নির্বাচন করতে হয়, যেমন—মেয়াদ শেষ, হারানো, তথ্য সংশোধন বা নষ্ট পাসপোর্ট। সব তথ্য যাচাই শেষে আবেদন সাবমিট করতে হয় এবং একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ নিয়ম
বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। ফর্মে ‘Are You Applying from Bangladesh?’ প্রশ্নে ‘No’ নির্বাচন করে বর্তমান দেশের নাম দিতে হয়। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে রেসিডেন্স কার্ড বা আকামা যুক্ত করতে হতে পারে, যা প্রক্রিয়াটি সহজ করে তোলে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি
পাসপোর্ট রিনিউ করতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে—পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন, অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, পাসপোর্ট ফি জমার রশিদ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC বা GO। পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। সাধারণত ৫ বছর ও ১০ বছরের মেয়াদে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট পাওয়া যায়। প্রসেসিং টাইপ অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট রিনিউ সম্পন্ন হয়, তবে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে সময় আরও কম হতে পারে।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েন। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্য না মিললে আবেদন বাতিল হতে পারে। আবার অনেকেই দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে দ্রুত সেবা নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এড়িয়ে চলা উচিত। ফি পরিশোধ ছাড়া আবেদন সম্পন্ন করা যায় না—এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করেছে, যা দেশের সব জেলায় কার্যকর রয়েছে, ফলে নাগরিক সেবা সহজে পাওয়া যাচ্ছে।



