লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ফরিদপুরের প্রবাসী নারী দীপালি আক্তারের মৃত্যু
লেবাননে হামলায় ফরিদপুরের দীপালি আক্তারের মৃত্যু

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ফরিদপুরের প্রবাসী নারী দীপালি আক্তারের মৃত্যু

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ফরিদপুরের এক প্রবাসী নারী দীপালি আক্তার নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

দীপালি আক্তারের পটভূমি ও লেবাননে অবস্থান

দীপালি আক্তার ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকা শেখের কন্যা ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে পাড়ি জমান এবং বৈরুতে কাজ করছিলেন। তার পরিবারে দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ সন্তান ছিলেন।

হামলার বিস্তারিত ও অন্যান্য নিহত

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় দীপালি আক্তার যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেখানে ইসরায়েলি বোমা হামলা সংঘটিত হয়। এই হামলায় শুধু দীপালিই নিহত হননি, বরং তার চাকরিদাতা বা কফিলের পরিবারেরও ছয় সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে শোকগ্রস্ত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মরদেহ দেশে আনার প্রচেষ্টা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

দীপালি আক্তারের ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, তার বোনের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত আছে। পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। বৈরুতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে আমরা এই দুঃখজনক ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। মরদেহ দেশে আনতে পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা দীপালি আক্তারের মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা

এই ঘটনা লেবাননে চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যারা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কাজ করছেন। দূতাবাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

দীপালি আক্তারের মৃত্যু বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।