সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ দেশে ফিরল
ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ দেশে ফিরল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ দেশে ফিরেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৮৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

মরদেহের দেশে ফেরা ও দাফন

নিহত হওয়ার ৯ দিন পর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টায় বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ দেশে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ গ্রহণ করেন এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে মরদেহ পৌঁছায়। বাদ আসর স্থানীয় জিরুইন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত শাহ আলম ভূঁইয়া জিরুইন গ্রামের প্রয়াত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিস্তারিত ও সরকারি সহায়তা

১ এপ্রিল সকালে আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ ডিব্বা গোফ এলাকার একটি খামারে কাজে যাওয়ার পথে শাহ আলম ভূঁইয়া নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ তাঁর ওপর পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে দেশটির পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘শাহ আলম ভূঁইয়া ছিলেন বৈধ কর্মী। এ কারণে তাঁর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে বিমা না থাকায় ১০ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশনপ্রক্রিয়া শেষে এই সহায়তা দেওয়া হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত সাতজনের মধ্যে এটি দেশে আনা পঞ্চম মরদেহ। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান।

পরিবারের অবস্থা ও আহাজারি

শাহ আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী নয়না আক্তার, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে। দুই ছেলে এখনো ছোট—একজন ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় পড়ে, অন্যজন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মরদেহ গ্রহণের সময় শাহ আলমের স্ত্রী নয়না আক্তার, বড় মেয়ে শারমিন আক্তার, ভাই খোরশেদ আলম ভূঁইয়া ও বোন সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে আমরা মরদেহ গ্রহণ করি। এরপর বাড়িতে এসে পৌঁছায় বিকেল ৪টার দিকে।’

নিহত শাহ আলমের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আমিরাত সরকার বা তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেখান থেকে ভালো কোনো সহায়তা করা হবে। কিন্তু এখনো এমন কিছু হয়নি। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

ঘটনার পর থেকেই স্বজনেরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এখন মরদেহ ফিরলেও পরিবারের আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।