যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারী নীলুফার ইয়াসমিনকে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক বাংলাদেশি নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশটির পুলিশ অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ফ্লোরিডা স্টেটের ফোর্ট মায়ার্স সিটিতে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ব্লুবার্ডে অবস্থিত ডি অ্যান্ড ডি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সামনে সংঘটিত হয়। নীলুফার ইয়াসমিন এই দোকানে তিন মাস আগে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়নে। তার ১৬ ও ২০ বছরের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
দোকানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ শিপু ও জায়গার মালিক আরিফ আহমেদ আশরাফের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন (৪০) এটিএম মেশিন থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নীলুফারের কাছে টাকা দাবি করেন। নীলুফার তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি হয়তো ভুল পিন নম্বর দিয়েছেন, এটিএম মেশিন তো আমার নয়, আমি টাকা দিতে পারব না।’ এ কথা শুনে রোলবার্ট চলে যান।
হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক দৃশ্য
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছয়টায় ফজরের নামাজ শেষে নীলুফার গাড়ি ভাঙার শব্দ শুনে দোকান থেকে বের হন। তিনি রোলবার্টকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কী করছেন?’ তখন রোলবার্ট ‘আমাকে আমার টাকা দাও’ বলে তেড়ে এসে হাতুড়ি দিয়ে নীলুফারের মাথায় আঘাত করেন। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে রোলবার্ট প্রথমে নীলুফারের গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙচুর করেন, পরে তার মাথায় হাতুড়ি মেরে হত্যা করেন।
ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীলুফারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তের পরিচয় ও গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন একজন গৃহহীন ব্যক্তি যিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোলবার্টকে গ্রেপ্তার এবং লি কাউন্টি জেলে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। পুলিশ অপরাধীর ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়া গেলে জানানোর জন্য সাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ায় তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশি সম্প্রদায় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।



