মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে, সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে বাহরাইনে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি কর্মী এস এম তারেকের মরদেহ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (জিএফ-২২৫০) মরদেহটি দেশে আনা হয়, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিমানবন্দরে মন্ত্রীদের উপস্থিতি ও শোক প্রকাশ
বিমানবন্দরে সরকারের ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মরদেহটি গ্রহণ করেন। মরদেহ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাদের উপস্থিতি সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবাসীদের প্রতি সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
নিহতের সংখ্যা ও সরকারি পদক্ষেপ
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডি। তিনি বলেন, “নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আমরা এই সংকটকালে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”
পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি
নিহত এস এম তারেকের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফনকার্যের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের জরুরি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, পরবর্তীতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বিমা সুবিধা বাবদ আরও ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি, যা তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রবাসী নিরাপত্তা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যারা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া গ্রিসের ক্যাম্পে বন্দি বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হচ্ছে, যা আমাদের বৈদেশিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।”
অন্যান্য নিহতদের অবস্থা ও সতর্কতা
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, এ পর্যন্ত ৩ জন নিহতের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, বাকি মরদেহগুলো ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাকি প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে।
বিমানবন্দরে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি
মরদেহ হস্তান্তরের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ.টি.এম. মাহবুব-উল করিম। তাদের উপস্থিতি এই ঘটনার গুরুত্ব ও জাতীয় একাত্মতা তুলে ধরে।



