মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বাহরাইনে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী এস এম তারেকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় তারেকের মরদেহবাহী একটি বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মরদেহ গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং প্রবাসী কল্যাণ সচিব শামা ওবায়েদ।
ঘটনার পটভূমি ও নিহতের পরিচয়
সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায়, বাহরাইনের রাজধানী মানামার নিকটবর্তী একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজে আঘাত হানলে এস এম তারেক নিহত হন এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি আহত হন। নিহত তারেকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রবাসে কর্মরত ছিলেন, যা তার পরিবারের জন্য একটি বড় আর্থিক অবলম্বন ছিল।
সরকারের তদারকি ও সহায়তা ঘোষণা
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই নিবিড়ভাবে তদারকি করছে এবং নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, নিহত তারেকের পরিবারের জন্য দাফন ও পরিবহন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা, বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা প্রদান করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিহতের পরিবারের জন্য আরও কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আহতদের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই ঘটনায় আহত দুই বাংলাদেশি কর্মী বর্তমানে বাহরাইনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকার তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরও জানান, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত নীতিমালা আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায় এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
এই ঘটনা বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



