বাংলাদেশি কিশোরী এভা ছোয়ার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন: ১৬তম জন্মদিনে প্রথম সোলো ফ্লাইট
এভা ছোয়ার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন: ১৬তম জন্মদিনে সোলো ফ্লাইট

বাংলাদেশি কিশোরী এভা ছোয়ার আকাশ ছোঁয়ার যাত্রা: চিকিৎসক থেকে পাইলট হওয়ার অনুপ্রেরণাময় গল্প

শৈশবে তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। ছোটবেলা থেকেই মেডিকেল স্টেম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসা পেশা নিয়ে কৌতূহল তাকে পরিবারের কাছে একজন ভবিষ্যত ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু জীবনের পথচলা সব সময় সরল রেখায় এগোয় না। কখনো অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে স্বপ্নের দিক পরিবর্তন হয়ে যায়, যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।

ইউটিউব ভিডিও থেকে জন্ম নেওয়া নতুন স্বপ্ন

বাংলাদেশি মা-বাবার সন্তান এভা ছোয়ার জীবনের মোড় ঘুরে যায় মাত্র ১০ বছর বয়সে। ইউটিউব স্ক্রল করার সময় তার ফিডে ভেসে আসে ইউএস এয়ারওয়েজ ফ্লাইট–১৫৪৯-এর বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও। ২০০৯ সালে এই বিমান ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিউইয়র্কের হাডসন নদীতে জরুরি অবতরণ করেছিল।

৪৫ মিনিটের সেই ভিডিওটি তিনি টান টান উত্তেজনা নিয়ে দেখেছিলেন। ভিডিওতে ক্যাপ্টেন চেসলি সুলেনবার্গার কীভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৫৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন, তা দেখে মুগ্ধ হন এভা। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া। দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচনের এই কার্যক্রম দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, তার ভেতরেও আকাশ ছোঁয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা থেকে বিমান চালনায় পথ পরিবর্তন

উচ্চমাধ্যমিকের শুরুতে এভা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শুরু করেন, মূলত রক্ত দেখা তার পছন্দ না হওয়া এবং পেশাটি আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ার কারণে। কিন্তু অবসর সময়ে বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের ভিডিও দেখার শখ তখন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ভিডিও তার কৌতূহল বাড়িয়ে দিত এবং তিনি ভাবতেন, এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে বাঁচাতে কী করা যেতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম বর্ষ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেকে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে আবিষ্কার করেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলে উপলব্ধি করে, তিনি নতুন পথের সন্ধানে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মা-বাবাকে জানান, তিনি পাইলট হতে চান। প্রথমে কিছুটা ভীত হলেও মেয়ের আগ্রহ ও উদ্যম দেখে তারা সমর্থন জোগান।

প্রশিক্ষণ ও প্রথম সোলো ফ্লাইটের সাফল্য

লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত অভিজ্ঞ বাংলাদেশি সার্টিফায়েড ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর অ্যালেন ইলিয়াস খানের সঙ্গে পরিচয়ের পর এভার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি সপ্তাহে এক দিন স্থানীয় বিমানবন্দরে গিয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট চালাতেন। বিমান ল্যান্ডিং বা অবতরণ করানো ছিল সবচেয়ে কঠিন অংশ, যা শিখতে তার দুই মাস সময় লেগেছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ তার ল্যান্ডিং আরও নিখুঁত হয়ে ওঠে।

অবশেষে, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ নিজের ১৬তম জন্মদিনে এভা ছোয়া তার প্রথম ‘সোলো ফ্লাইট’ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষক ছাড়া একাই বিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন তিনি। তিনটি সফল টেকঅফ ও অবতরণের মাধ্যমে তিনি অর্জন করেন প্রথম সোলো ফ্লাইটের মর্যাদা। ফ্লাইট শেষে তিনি বলেন, ‘সকলের জন্য আমার বার্তা—স্বপ্ন দেখো, ওড়ো এবং তা বাস্তব করো। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েরা। আমি আশা করি, আমি তাদের প্রেরণা দিতে পারব।’

প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এভার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তার প্রশিক্ষক অ্যালেন ইলিয়াস খানের মতে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত আহনাফ আবিদ ও এভা ছোয়ার এই সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও গর্বের বিষয়। এফএএর নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সে তিনি এখন প্রশিক্ষক ছাড়াই নিজে বিমান চালাতে পারবেন।

মেয়ের সাফল্যে গর্বিত বাবা বিপ্লব শিকদার বলেন, ‘আমরা সব সময়ই চেয়েছি মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করুক। এভা যেভাবে সাহসের সঙ্গে এত যত্নসহকারে প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতে আমরা সত্যিই গর্বিত।’ মা তানিয়া শিকদারও একই অনুভূতি প্রকাশ করেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষে এভিয়েশনে ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি পাইলট রেটিং বাড়ানোর লক্ষ্য এভা ছোয়ার। তার চূড়ান্ত স্বপ্ন, একজন দক্ষ এয়ারলাইনস পাইলট হওয়া।