এভা ছোয়ার আকাশ জয়: ১৬ বছর বয়সে প্রথম সোলো ফ্লাইট সম্পন্ন
শৈশবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এভা ছোয়া। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরে যায় একটি ইউটিউব ভিডিও দেখে। মাত্র ১০ বছর বয়সে ইউএস এয়ারওয়েজ ফ্লাইট–১৫৪৯-এর দুর্ঘটনা ও তদন্তের ভিডিও তার মনে গভীর রেখাপাত করে। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের কার্যক্রম দেখে তিনি অনুভব করেন, তার ভেতরেও আকাশ ছোঁয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে।
স্বপ্নের পথ বদল ও দ্বন্দ্ব
উচ্চমাধ্যমিকে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এভার মনে জেগে ওঠে প্রশ্ন। অবসর সময়ে বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও দেখার নেশা তাকে টেনে নিয়ে যায় নতুন এক জগতে। প্রথম বর্ষ শেষে তিনি উপলব্ধি করেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে তার আগ্রহ নেই। এই সিদ্ধান্ত তাকে হতাশ না করে বরং নতুন পথের সন্ধানে দৃঢ় করে।
প্রশিক্ষণ ও ল্যান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এভা তার মা-বাবাকে পাইলট হওয়ার ইচ্ছা জানান। লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিজ্ঞ বাংলাদেশি ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর অ্যালেন ইলিয়াস খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই এভা দেখান অসাধারণ মেধা ও আগ্রহ। বিমান ল্যান্ডিং শিখতে তার দুই মাস সময় লাগে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ তার ল্যান্ডিং নিখুঁত হতে থাকে। প্রশিক্ষক ইলিয়াস খান তাকে ‘বাটার স্মুথ’ বলে প্রশংসা করেন।
প্রথম একাকী উড়ান ও সাফল্য
গত ২৯ মার্চ, তার ১৬তম জন্মদিনে এভা ছোয়া প্রথম ‘সোলো ফ্লাইট’ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষক ছাড়াই তিনি তিনটি সফল টেকঅফ ও অবতরণ করেন। এভা বলেন, ‘স্বপ্ন দেখো, ওড়ো এবং তা বাস্তব করো। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েরা। আমি আশা করি, আমি তাদের প্রেরণা দিতে পারব।’ এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্ব
এভার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তার প্রশিক্ষক অ্যালেন ইলিয়াস খানের কাছ থেকে আগে আরেক বাংলাদেশি আহনাফ আবিদ ১৭ বছর বয়সে প্রাইভেট পাইলট সার্টিফিকেট অর্জন করেছিলেন। এবার এভার সাফল্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। এভার বাবা বিপ্লব শিকদার ও মা তানিয়া শিকদার মেয়ের সাফল্যে গর্বিত। এভার চূড়ান্ত লক্ষ্য একজন দক্ষ এয়ারলাইনস পাইলট হওয়া।



