সৌদি হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর কান্নায় ভেঙে পড়া ঈদ
সৌদি হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর কান্নায় ভেঙে পড়া ঈদ

সৌদি হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর কান্নায় ভেঙে পড়া ঈদ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামে এবারের ঈদে আনন্দের বদলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩৮) লাশ দেশে ফেরার পর তাঁর স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত শুক্রবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, যা পরিবারের জন্য এক মর্মান্তিক মুহূর্ত তৈরি করে।

মৃত্যুর পর লাশের প্রত্যাবর্তন ও দাফন

মোশারফ হোসেনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর বিকেল পাঁচটার দিকে কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়, যা ঈদের ঠিক আগের দিন সংঘটিত হয়। এই ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের উৎসবকে একেবারে ম্লান করে দেয়।

প্রবাসী জীবনের পটভূমি ও হামলার ঘটনা

মোশারফ হোসেন জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সর্বশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন, যা পরিবারের সাথে তাঁর শেষ দেখা হয়ে যায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকার একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটে। এই হামলায় মোশারফ হোসেন নিহত হন, যা তাঁর পরিবারের জন্য এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি বয়ে আনে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রী ও পরিবারের শোক প্রকাশ

স্বামীর মৃত্যুর পর কবরী আক্তার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। ঈদের দিনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের কোনো ঈদ নাই, আমার ছেলেদের কোনো ঈদ নাই। আমাদের ফেলে সে চলে গেছে।’ তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে পরিবারের অনন্ত শোক ও বেদনা। মোশারফের বাবা সুজাত আলীও একইভাবে মর্মাহত হয়ে বলেন, ‘আমার জীবনে আর কখনো ঈদ আসবে না। শেষবারের মতো ছেলেকে নিজের মাটিতে কবর দিতে পেরেছি, এটুকুই শান্তি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি ও রাজনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

এই ট্র্যাজেডির পর পরিবারটিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা জানান, নিহত মোশারফের দুই ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এছাড়াও, সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনি নিশ্চিত করেন যে সরকারের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যা এই দুঃসময়ে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এই সমর্থন পরিবারের সদস্যদের জন্য এক ধরনের মানসিক বলয় তৈরি করতে পারে, যদিও তাদের শোক এখনও গভীর ও তীব্র।

এই ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে, বিশেষ করে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মোশারফ হোসেনের পরিবারের করুণ কাহিনী শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিই নয়, বরং এটি প্রবাসী সম্প্রদায়ের broader challenges-এর প্রতিফলন হিসেবে কাজ করে।