মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের পাশে সব সময় থাকবে সরকার: মন্ত্রী আরিফুল হক
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সব সময় প্রবাসীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও শিক্ষা খরচ বহন
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সরকারিভাবে বিধি মোতাবেক যা প্রাপ্য হবে, তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে, নিহত মোশাররফ হোসেনের দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বহন করবে। মরদেহ হস্তান্তরকালে পরিবারকে দাফন কার্য সম্পন্নের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে ঈদের পর নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার প্রবাসীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষে যারা পুনরায় ফেরত যেতে চাইবে, তাদেরকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানও ব্রিফিংয়ে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সম্ভাব্য সব রকম আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘সব প্রবাসীর পাশে আমরা আছি, আমাদের সরকার রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধাবস্থায় প্রথম প্রায়োরিটি বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা, এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। মিশনগুলো স্ব স্ব দেশে সক্রিয় থেকে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত যুদ্ধাবস্থার অবসান চায় এবং কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান কামনা করে। যারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরতে চান, তাদের নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
নিহতের ব্যক্তিগত তথ্য ও বিমানবন্দরে উপস্থিতি
সৌদি আরবের আলখারাজ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং ঝঠ৮০৬ যোগে রিয়াদ থেকে ঢাকায় আনা হয়। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে, এবং বাবার নাম সূরজত আলী। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



