ইরানে আগ্রাসনে উদ্বিগ্ন ২০০ বাংলাদেশি আজারবাইজান সীমান্তে দেশে ফেরার অপেক্ষায়
ইরানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে আজারবাইজান সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস এই স্বদেশগামী নাগরিকদের সহায়তায় বিশেষ আয়োজন করেছে, যাতে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নিরাপদে ফিরতে পারেন।
দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা ও যাত্রা শুরু
দূতাবাস প্রধান এইচ এম বনান জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে তারা ৯টি বাসে করে প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে নিয়ে ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশ আজারবাইজানের সীমান্তের দিকে রওনা হয়েছেন। দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া সুলতানাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা যাত্রীদের সঙ্গে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন।
ইমিগ্রেশন বিলম্ব ও ফ্লাইট সময় পরিবর্তন
যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আজারবাইজানের বাকু বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ৬টি গাড়ি প্রস্তুত থাকলেও ইমিগ্রেশনের কাজ সারতে সময় লেগে যাচ্ছে। বুধবার ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর আঞ্জালিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ঘটনায় সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অফিস সময়ের মধ্যে গাড়ি সীমান্তে না পৌঁছানো এই বিলম্বের প্রধান কারণ।
ইরান-আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্ত আঞ্জালির কাছেই অবস্থিত, যা যাত্রাপথকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিকাল ৫টায় ফ্লাইট হওয়ার কথা থাকলেও ইমিগ্রেশনে দেরির কারণে সময় পিছিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় পরিবর্তন করা হয়েছে।
যাত্রীদের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অপেক্ষমান স্বদেশগামী যাত্রীরা সংশয় প্রকাশ করেছেন যে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে কিনা। সীমান্ত থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে কমপক্ষে চার ঘণ্টা লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা তাদের যাত্রাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দূতাবাস কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে তারা দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন।



