সুনামগঞ্জে শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা: প্রবাসী বাবার ফেসবুক ভিডিওতে আহাজারি
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার শ্রীনাথপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার বিকেলে ৮ বছরের শিশু আবদুল্লাহ আল মামুনের রক্তাক্ত লাশ হাওরের একটি ধানখেতে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
শিশু আবদুল্লাহ আল মামুন দুপুরে প্রতিবেশী দুই শিশুর সঙ্গে হাওরে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে আর খুঁজে না পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে অন্য দুই শিশু জানায়, মামুন তাদের কাছ থেকে চলে গেছে। সন্ধ্যার আগে হাওরের ধানখেতে তার লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মাথার পেছনের দিকে ও ঘাড়ে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম তালুকদার নিশ্চিত করেছেন যে, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রবাসী বাবার মর্মান্তিক আহাজারি
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মোস্তাক আহমদ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ায় প্রবাসে কর্মরত, একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি ছেলের জন্য করুণ আহাজারি জানিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলেটা কী সুন্দর পড়ত। কে মারল তারে? আমি ১২ ঘণ্টা, ১৩ ঘণ্টা পরিবারের লাগি বিদেশে কামলা দিই। আমার মা ও বাবা অসুস্থ। আমার ছেলের খুনিদের ধরার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে দাবি জানাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাক আহমদ প্রবাসে থাকলেও তাঁর পরিবার গ্রামে বসবাস করে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে মামুন সবার বড় ছিল। শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত এবং পরিবারের আশা-ভরসার কেন্দ্র ছিল।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচনে তারা কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীরা বলছেন, মামুন একটি শান্ত ও মেধাবী শিশু ছিল, যার এই মৃত্যু সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অঞ্চলে আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



