ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে সংঘটিত এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এমপি এবং সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া পৃথক শোকবার্তায় তাদের দুঃখ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিস্তারিত বিবরণ
গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের আলখারজ এলাকায় ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এই হামলার ফলে তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়, যা তৎক্ষণাৎ জীবননাশক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তাকে দ্রুত রিয়াদের কিং সাউদ মেডিকেল সিটির অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘ নয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ১৭ মার্চ রাত ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত মামুনের স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে, যেখানে তার বাবা শহিদুল ইসলাম বাস করেন। এই ঘটনা তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপর গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সিনিয়র সচিব তাদের শোকবার্তায় মরহুম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রার্থনা করেছেন যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করা হয় এবং তার পরিবার এই দুঃসহ যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি আরও উল্লেখ করেছেন যে, রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা এই দুর্ঘটনার শুরু থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে, বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংঘাতের সময়ে। সরকার বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।



