সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী মফিজুর রহমান নিহত, মক্কাতেই দাফন
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা প্রবাসী মফিজুর রহমান (৬৫) নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মফিজুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর মক্কাতেই দাফন করা হবে তাঁকে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মফিজুর রহমানের বড় ছেলে তারেকুর রহমান জানান, গত সোমবার রাতে তারাবিহর নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন উদ্ধার করে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মারা যান।
তারেকুর রহমান বলেন, 'আমার বাবার কফিল (নিয়োগকর্তা) তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন। বাবা মুমূর্ষু অবস্থায় কফিলকে অনুরোধ করেছিলেন, মৃত্যু হলে যেন তাঁকে মক্কায় দাফন করা হয়। ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে মক্কায় দাফন করা হবে।'
পরিবারের শোক ও অর্থনৈতিক সংকট
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরঘাটার বাসিন্দা মফিজুর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ১২ বছর ধরে মক্কায় জীবিকার তাগিদে বসবাস করছেন। যখন যে চাকরি পেতেন, তা করেই সংসার চালাতেন তিনি। সর্বশেষ গত ২০০৯ সালে দেশে আসেন তিনি।
একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে ভাসছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি লাশ মক্কায় দাফন হলে স্বজনেরা শেষবার তাঁর মুখও দেখতে পারবেন না, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসী জীবনের সংগ্রাম
মফিজুর রহমানের জীবন ছিল প্রবাসী শ্রমিকের কঠোর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি মক্কায় বিভিন্ন কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকে শোকস্তব্ধ করেনি, বরং প্রবাসী জীবনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির দিকটিও উন্মোচিত করেছে।
এই দুর্ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। মফিজুর রহমানের মতো অসংখ্য প্রবাসী বিদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, কিন্তু তাদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।



