সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়লেন
সৌদি হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর মর্মন্তুদ কান্না

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়লেন

মুঠোফোনে স্বামী বাচ্চু মিয়ার ছবি দেখতে দেখতে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী জোসনা বেগম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায়। ‘সংসারে সুখ আনতে আট বছর ধরে বাড়িছাড়া। সুখ আনতে গিয়া স্বামী আমার পৃথিবীছাড়া হইয়া গেল!’ মুঠোফোনে স্বামীর ছবির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথা বলছিলেন সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার (৪০) স্ত্রী জোসনা বেগম।

হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

গত রোববার সৌদি আরবের আল–খার্জ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাচ্চু মিয়াসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত অপর ব্যক্তির বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। এ ঘটনায় আরও ১২ শ্রমিক আহত হয়েছেন, যা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সংসারের স্বপ্ন ভেঙে গেল

পরিবার জানায়, বাচ্চু মিয়া কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে আট বছর আগে সৌদি আরবে যান। পবিত্র ঈদুল আজহায় তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে এসে একটি নতুন বাড়ি বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না। তার আগেই এল মৃত্যুর সংবাদ, যা পরিবারটিকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।

সন্তানদের মর্মন্তুদ কান্না

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাচ্চু মিয়ার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়িজুড়ে চলছে শোকের মাতম। বাচ্চু মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে কাসিম মিয়া, ছোট মেয়ে খাদিজা (৭) মানসিক প্রতিবন্ধী, মেজ মেয়ে সিদ্দিকা বেগম সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মারা যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে সিদ্দিকার সঙ্গে ফোনে বাবার কথা হয়। বাবার সঙ্গে হওয়া শেষ কথাগুলো মনে করে কাঁদতে কাঁদতে সে বলে, ‘আব্বা পড়াশোনা করতে বলছিল। বাড়ি আইসা আমার জন্য ঘর বানাইয়া দেওয়ার কথা বলছিল। এখন আব্বা তো নাই। কেডা ঘর বানাইয়া দিব? ঘরের দরকার নাই। আমি আমার আব্বার মরা মুখটা দেখতে চাই। তোমরা আমার আব্বার লাশটা আইনা দাও!’

মায়ের অপেক্ষা ও সংসদ সদস্যের সমবেদনা

ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন বাচ্চুর মা ফাতেমা বেগম। ছেলেকে হারিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন তিনি শুধু ছেলের লাশ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। দুপুরে বাচ্চুর পরিবারের খোঁজ নিতে ও সমবেদনা জানাতে বাড়ি আসেন কিশোরগঞ্জ–২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন। তাঁকে পেয়ে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবাই তাঁর কাছে বাচ্চু মিয়ার মরদেহ ফিরে পাওয়ার অনুরোধ জানান।

দ্রুত লাশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারি উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘সংসারে ভালো দিন দেখার আশায় তিনি প্রবাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে আর সেই সুযোগ দিল না। আমরা বাচ্চুকে জীবিত ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে লাশ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি।’ পরে সহায়তা হিসেবে সংসদ সদস্য পরিবারের সদস্যদের হাতে কিছু অর্থ তুলে দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, যা এই দুঃসময়ে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।