মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসীর লাশ দেশে ফিরল, সরকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিল
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসীর লাশ দেশে ফিরল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসীর লাশ দেশে ফিরল, সরকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী আহমদ আলীর লাশ সোমবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরেছে। লাশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসীদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের তরফ থেকে সাধ্যমতো তাঁদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে আমাদের করণীয় হলো, যাঁরা আহত হয়েছেন, যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের স্বজনদের কাছে নিয়ে আসা।’

নিহত চার বাংলাদেশির তথ্য

আরিফুল হক চৌধুরী নিশ্চিত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের চারজন নাগরিক মারা গেছেন। নিহতদের পরিচয় হলো:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বড়লেখার আহমদ আলী (দুবাইয়ে নিহত)
  • কিশোরগঞ্জের এক নাগরিক (সৌদি আরবে নিহত)
  • টাঙ্গাইলের এক নাগরিক (সৌদি আরবে নিহত)
  • চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এক নাগরিক (বাহরাইনে নিহত)

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে কাজ করছে। যখনই আমরা শুনছি কারও মৃত্যু হয়েছে, তখনই সব প্রসেস করে আমরা লাশ আনার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

লাশ ফেরতের প্রক্রিয়া

দুবাই থেকে আহমদ আলীর মরদেহ প্রথমে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়, যেখানে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ লাশ গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত চারজনের মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে, বাকিদের লাশও পরে নিয়ে আসা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কনস্যুলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। যাঁরা অসুস্থ, আহত আছেন, তাঁদের সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনটি মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে এবং হটলাইন ১৬১৩৫ চালু রয়েছে।

লেবাননে বাংলাদেশি কনস্যুলেট না থাকায় সেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএলওর মাধ্যমে প্রতিদিনকার তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যদি বিমান চার্টার্ড করতে হয়, তারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জীবন বাঁচানো বড় বিষয়।’

যাঁদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে হটলাইনের মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারি অনুরোধও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত প্রবাসীর শেষকৃত্য

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক আহমদ আলীর লাশ গ্রহণ করার পর স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের গ্রামের বাড়ি বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে যান। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ওই প্রবাসীর লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত আহমদ আলীর মামাতো ভাই কামাল আহমদ জানান, আহমদ আলী দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন এবং তিনি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন, যার এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। কামাল আহমদ সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের শহীদ ঘোষণার দাবি জানান।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসে এখনো যাঁরা যুদ্ধের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, তাঁদের বাড়ির সামনেও ড্রোন হামলা হচ্ছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে খবরাখবর রাখা হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে প্রবাসীদের লজিস্টিক সাপোর্ট অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।