কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ভিসা মেয়াদ বাড়ল তিন মাস
কুয়েতে প্রবাসীদের ভিসা মেয়াদ তিন মাস বাড়ল

কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আনন্দের খবর নিয়ে এসেছে কুয়েত সরকার। দেশটির সরকার সম্প্রতি একটি নতুন আইন চালু করে প্রবাসীদের ভিসা বা আকামার মেয়াদ তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকা পড়া প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাদের জন্য প্রযোজ্য এই সুযোগ?

কুয়েত সরকারের নতুন এই আইন অনুযায়ী, প্রধানত দুই ধরনের প্রবাসী এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। প্রথমত, যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন বা ২০ নম্বর আকামার অধীনে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছুটির মেয়াদ চার মাস থাকলেও নতুন নিয়মে আকামা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে তিন মাস বর্ধিত হবে। দ্বিতীয়ত, ১৮ নম্বর আকামাধারী ব্যক্তিরাও একই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এছাড়া, সব ধরনের ভিজিট এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রেও ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্রক্রিয়া?

নতুন এই ব্যবস্থায় প্রবাসীদের জন্য তিন মাসের অনুপস্থিতির অনুমতি প্রদান করা হবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ভিসা নবায়ন হয়ে যাবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির উদ্ভূত পরিস্থিতি শিথিল না হলে উল্লিখিত সময়কাল আরও বাড়ানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে উপকারী হবে সেইসব প্রবাসীদের জন্য যারা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্য যুদ্ধের কারণে ছুটিতে কুয়েত ছেড়ে নিজ নিজ দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন।

প্রবাসী জীবনের উপর প্রভাব

এই উদ্যোগটি কুয়েতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বিশাল স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রবাসীই যুদ্ধের কারণে পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়েছিলেন, যা তাদের চাকরি ও ভিসার মেয়াদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। নতুন এই আইন তাদের সেই চাপ থেকে মুক্তি দেবে এবং তারা নিশ্চিন্তে নিজ দেশে অবস্থান করতে পারবেন। এটি প্রবাসী জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, কুয়েত সরকারের এই সিদ্ধান্তটি প্রবাসী কল্যাণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি অন্যান্য দেশের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।