জাপানে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সপ্তাহিক প্রতিবেদন চাইলেন মন্ত্রী আরিফুল হক
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনও প্রকার শৈথল্য দেখানো যাবে না। বুধবার (৪ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাপানকে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে চিহ্নিত
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার। তিনি বলেন, পাশাপাশি এখন থেকে আমাদের মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর শ্রমবাজারের দিকে আরও বেশি জোর দিতে হবে।
২০২৯ সালের মধ্যে জাপানের লক্ষ্য ও বাংলাদেশের সুযোগ
সভায় জানানো হয়, ২০২৯ সালের মধ্যে এমপ্লইয়ি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার ক্যাটাগরিতে জাপান ১২ লাখেরও বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে। অপরদিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি মোতাবেক দেশের অভ্যন্তরের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পর বর্তমান প্রায় ২.৫ কোটি অতিরিক্ত ওয়ার্কিং এজ পপুলেশন রয়েছে। যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট হতে চাহিদা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে জাপান শ্রমবাজারের এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন আরও লক্ষাধিক কর্মী প্রেরণ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা
সভায় আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবাসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
সভায় জাপানি ভাষা শিক্ষক/প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চাহিদা অনুসারে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতকরণ, জাপানে ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থী প্রেরণের হার বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশে স্পেসিফায়েড স্কিল ওয়ার্কার এর ১৬টি ফিল্ডের মধ্যে ৬ টির টেস্ট গ্রহণ করা হবে। অপর ১০ টি ফিল্ডের স্কিল টেস্ট শুরুকরণ, ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি পদ্ধতির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ পূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট থেকে কর্মীর চাহিদা সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধকরণ, শ্রমবাজার সার্চ করে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদন প্রেরণ করবে এবং জাপানিজ ভাষা টেস্টের আসন সংখ্যা ও টেস্ট সেন্টার বৃদ্ধি করা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
ভার্চুয়াল টিচিং ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)তে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশী জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা, সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্লাটফর্মে জাপানিজ প্রশিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সভায় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড.নাজনীন কাওসার চৌধুরী, জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফ্যাকাল্টি ড.মো শাকিরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
