মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গৃহবন্দী হয়ে পড়া, মিসাইলের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হওয়া এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় তারা মানসিক চাপে ভুগছেন। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি এই সংকটে জড়িয়ে পড়েছেন।
কাতারে প্রবাসীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
কাতারের রাজধানী দোহায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বসবাসকারী ইরাদ শিকদার বলেন, ‘মিসাইলগুলো আকাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা ফ্ল্যাটের রুমে বসেই দেখতে পাই। বিকট শব্দে প্রাণে পানি থাকে না, রাতে ঘুমানো দায় হয়ে পড়ে। যদি যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা বলতে পারছি না।’ কাতারে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ বাঙালি বসবাস করেন এবং সবার মধ্যেই ভয়ানক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার সিয়াম সরদার যোগ করেন, ‘আমরা সরাসরি চোখে দেখতে পাচ্ছি, মিসাইলগুলো আমেরিকার এয়ারওয়েজে আঘাত হানছে। দিন যত যাচ্ছে, হামলার তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কোনো কাজে বাইরে যেতে পারছি না, ঘরবন্দী সময় কাটছে। পরিবারও আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে।’
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থা
সৌদি আরবের রিয়াদে এক দশক ধরে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী লোকমান হোসেন বলেন, ‘সৌদির মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালিরা কাজ করলেও ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই ভয়ের দিন কবে শেষ হবে, সেই আশায় আছি।’
দুবাইয়ে ১৭ বছর ধরে থাকা দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য, ‘প্রবাসে ভালো নেই। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, ধুরুম-ধারুম শব্দে আতঙ্কে কেঁপে উঠি। পুরো ভবন কেঁপে ওঠে, রাতে ঘুম হয় না। আমরা অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ চাই।’
দেশে থাকা স্বজনদের উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় দেশে থাকা প্রবাসীদের স্বজনরাও উদ্বেগের মধ্যে আছেন। মাদারীপুরের ওমর আলী শিকদার বলেন, ‘আমার বড় ছেলে কাতারে থাকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে খুব চিন্তার মধ্যে আছি। সামনে ঈদ, কিন্তু সে কাজও করতে পারছে না। আমরা চাই, এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ হোক এবং শান্তি ফিরে আসুক।’
সরকারি পদক্ষেপ ও সহযোগিতা
মাদারীপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল জলিল মিয়া জানান, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রবাসীরা সহযোগিতা চাইলে দূতাবাসের মাধ্যমে সব ধরনের সাহায্য প্রদান করা হবে। মাদারীপুর জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, এবং ইউরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যেও প্রচুর বাংলাদেশি কর্মরত আছেন।
এই সংকটে প্রবাসীরা শুধু আতঙ্কিতই নন, অনেকের কাজ হারানো এবং অর্থনৈতিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
