সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের বোমা হামলায় মৌলভীবাজারের প্রবাসী নিহত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের বোমা হামলার ঘটনায় মৌলভীবাজারের প্রবাসী সালেহ আহমদ নিহত হয়েছেন। তিনি বড়লেখা পৌর শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনরা গভীর শোকে নিমজ্জিত।
৩০ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালেহ আহমদ ৩০ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করছিলেন। দেশে তিনি সালেহ আহমদ নামে পরিচিত হলেও প্রবাসে তার নাম ছিল আহমদ আলী। গত বছর শেষবার দেশে এসেছিলেন তিনি এবং চার মাস আগে আবার দুবাইয়ে ফিরে যান।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শনিবার রাতে দুবাইয়ের আজমান শহরে ইরানের বোমা হামলার ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার আর কখনোই জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।
হামলার সময় পানি সরবরাহের কাজে বের হয়েছিলেন
সালেহ আহমদের বাড়ি বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফতারের পর কোনও একসময় ইরানের ছেড়া ক্ষেপণাস্ত্র তার গাড়িতে আঘাত করলে তিনি মারা যান। তিনি দুবাইয়ের আজমান শহরে পানির ট্যাংকার চালাতেন এবং হামলার সময় পানি সরবরাহের জন্য গাড়ি নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন।
ওই শহরে তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও থাকেন। তারাই সালেহ আহমদের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানিয়েছেন। সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছেন, যারা সবাই দেশে থাকেন।
পরিবারের শোক ও বিস্তারিত ঘটনা
সালেহ আহমদের ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম জানান, গত বছর তার ভাশুর দেশে এসেছিলেন এবং প্রায় চার মাস আগে দুবাই ফিরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি সবশেষ দেশে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন শনিবার রাতে মৃত্যুসংবাদ পান তারা। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানরা শোকে কাতর।
শেলি বেগম আরও জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে প্রথম তারা খবর পান যে সালেহ আহমদ বোমা হামলায় মারা গেছেন, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। আজমান শহরে থাকা সালেহর দুই ভাই সেখানকার হাসপাতালে যান, তবে তারা ভাইকে দেখার সুযোগ পাননি।
দুই ভাই পরিবারের সদস্যদের জানান, গাড়িতে বোমা হামলার পরপরই দুবাইয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সালেহকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা কফিলের (দুবাইয়ে স্থানীয় চাকরিদাতা) মাধ্যমে সালেহ আহমদের মৃত্যুর বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তার লাশ হাসপাতালে রাখা আছে।
ঘটনার আগের মুহূর্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
শেলি বেগম বলেন, ঘটনার আগে সালেহ আহমদ ভাইদের মোবাইলে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে বলেছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। কিন্তু তার আগেই বোমা হামলায় মারা যান।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।’
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহজাহান বলেন, ‘সালেহ আহমদের মৃত্যুর খবর শুনে আজ দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছি। স্বজনরা কাঁদছেন। এমন মৃত্যু মর্মান্তিক।’



