বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের বলি হয়েছেন বাহরাইনে কর্মরত এক বাংলাদেশি প্রবাসী। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হামলায় নিহত ও আহতের বিবরণ
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলায় মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত তারেকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন এবং একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কাজ করাকালীন এই হামলার শিকার হন।
পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া
তারেকের ফুফাতো ভাই ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। তার এভাবে মৃত্যুতে পরিবার ও সন্দ্বীপের আজিমপুর এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।
হামলার পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকরা।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানামার কাছে সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড সফলভাবে নেভানো হয়েছে, কিন্তু ধ্বংসাবশেষ সরাসরি জাহাজে পড়ায় শ্রমিকরা হতাহত হন।
দূতাবাসের পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস আহত দুই বাংলাদেশির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নিহতের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির অবনতির কারণে বাহরাইনে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা এখন কেবল প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।



