মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ বাংলাদেশিসহ ২৪৫ অভিবাসী প্রত্যাবাসিত, কালো তালিকাভুক্ত
মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ বাংলাদেশিসহ ২৪৫ অভিবাসী প্রত্যাবাসিত

মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ বাংলাদেশিসহ ২৪৫ অভিবাসী প্রত্যাবাসিত, কালো তালিকাভুক্ত

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ২৪৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিভাগের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যা এই ঘটনায় বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়।

প্রত্যাবাসিতদের জাতীয়তা

ইমিগ্রেশন বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিত ২৪৫ জনের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। মিয়ানমারের ৮২ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ৬৮ জন সর্বোচ্চ সংখ্যক। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২৬ জন এবং ভারতের ২৩ জন নাগরিক ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের দুজন করে এবং নেপাল, সিরিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও কঙ্গোর একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও ব্যয়

সব বন্দিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২ এবং স্টুলাং লাউত ফেরি টার্মিনালের মাধ্যমে তাদের দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিমান টিকিটের ব্যয় বহন করা হয়েছে বন্দিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পরিবারের আর্থিক সহায়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবাই বৈধ পাসপোর্টধারী ছিলেন। যাদের পাসপোর্ট ছিল না, তাদের নিজ নিজ দূতাবাসের মাধ্যমে অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করা হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্তি ও ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞা

ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রত্যাবাসিত সব ব্যক্তিকে তাদের সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা আর কোনো উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপটি নিয়মিত প্রত্যাবর্তন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যাতে সাজা সম্পন্ন করার পরও কোনো বন্দি দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করতে না পারে।

পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা বিভাগের প্রধান কার্যক্রমগুলোর একটি। বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম—যেমন টিকিট ক্রয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়—পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থাপিত সেবা কাউন্টারে সম্পন্ন করা যাবে।

এই ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা দেশের অভিবাসন নীতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকে নজর দিতে বাধ্য করছে।