ইরানের হামলায় দুবাইয়ে নিহত বাংলাদেশি সালেহ আহমদ, মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা
ইরানের হামলায় দুবাইয়ে নিহত বাংলাদেশি সালেহ আহমদ

ইরানের হামলায় দুবাইয়ে বাংলাদেশি নাগরিক সালেহ আহমদের মৃত্যু

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাসিন্দা সালেহ আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। ৩৫ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাসকারী সালেহ আহমদ প্রবাসে আহমদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন। গত বছর তিনি দেশে এসেছিলেন এবং চার মাস আগে আবার দুবাই ফিরে যান, যা তাঁর জীবিত অবস্থায় শেষ দেশে ফেরা হয়ে উঠল।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

গত শনিবার রাতে দুবাইয়ের আজমান শহরে ইরানের বোমা হামলার ঘটনায় সালেহ আহমদ মারা যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফতারের পর কোনো এক সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে আঘাত করে। তিনি দুবাইয়ের আজমান শহরে পানির ট্যাংকার চালাতেন এবং হামলার সময় পানি সরবরাহের জন্য গাড়ি নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন। ওই শহরে তাঁর ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও থাকেন, যাঁরা পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

সালেহ আহমদের ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর সালেহ আহমদ দেশে এসেছিলেন এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সর্বশেষ স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরের দিন শনিবার রাতে তাঁরা মৃত্যুসংবাদ পান। শনিবার রাত ১০টার দিকে প্রথম খবর পাওয়া গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি পরিবার। আজমান শহরে থাকা সালেহর দুই ভাই হাসপাতালে গেলেও তাঁকে দেখার সুযোগ পাননি।

দুই ভাই পরিবারকে জানান, গাড়িতে বোমা হামলার পর দুবাইয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সালেহকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কফিলের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হন। সালেহ আহমদের লাশ হাসপাতালে রাখা আছে। শেলি বেগম আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার আগে সালেহ আহমদ ভাইদের মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে বলেছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে আলাপ করবেন, কিন্তু তার আগেই হামলায় তিনি মারা যান।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল এবং পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে দেশে থাকেন, যাঁরা এই দুঃসংবাদে শোকাহত।