কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ইফতার ও মতবিনিময়ে ডলি বেগমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ইফতারে ডলি বেগমের পরিকল্পনা

কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ইফতার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কানাডার টরন্টো শহরের স্কারবোরো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে এক জমজমাট ইফতার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ডলি বেগম।

ডলি বেগমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ডলি বেগম শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বই করছেন না, আগামী দিনে তিনি বৃহত্তর কানাডিয়ান সমাজের সেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ডলি বেগম উপস্থিত সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় বক্তব্য দেন ড. শাফি ভুইয়া, ড. মাহবুব রেজা, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শওগাত আলী সাগর ও দেলওয়ার এলাহীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন, যা বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডলি বেগমের রাজনৈতিক অর্জন ও নতুন অধ্যায়

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কন্যা ডলি বেগম কানাডার রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি টানা তিনবার প্রাদেশিক সংসদ সদস্য (এমপিপি) নির্বাচিত হন, যার মধ্যে ২০১৮ সালের ৭ জুনের প্রাদেশিক নির্বাচনে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হয়ে স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্ট আসনে জয়লাভ করেন এবং ২০২২ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ তিনি ফেডারেল রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে পদত্যাগ করেন, এবং পরদিন ফেডারেল লিবারেল পার্টি তাকে বিল ব্লেয়ারের স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি বর্তমানে শূন্য হয়েছে, এবং আসন্ন উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে ডলি বেগমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তার রাজনৈতিক দক্ষতা, জনসংযোগ ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমতার বার্তা তুলে ধরে তিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই পদক্ষেপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, যা কমিউনিটির ঐক্য ও প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মতবিনিময় সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই অনুষ্ঠানটি কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।