মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশের ফ্লাইট স্থগিত, হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে বাংলাদেশের ফ্লাইট স্থগিত, যাত্রী ভোগান্তি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশের ফ্লাইট স্থগিত, বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রী আটকা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী এবং ইউরোপ-আমেরিকাগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রী রয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে সেখানে সরাসরি যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি যাত্রীদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তাদের সহায়তায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো তদারকি করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন ও মন্ত্রীর আশ্বাস

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ফোন করে বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যাত্রীদের ভোগান্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে যাত্রীদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার বিষয়টি আরিফুল হক নিজেই নিশ্চিত করেন এবং বলেন, "আমরা সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতনরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ৫০ জন যাত্রী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন আরও ৮০০ জনের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।"

যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

ফোন আলোচনায় মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ওমানের মাস্কাটের ফ্লাইটের জন্য ৫৩ জন যাত্রী সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তাদের জন্য হোটেলে পাঠানো হয়েছে এবং সেহরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীকাল তাদের একটি এসি বাসে সিলেটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা আকস্মিক সিদ্ধান্ত হিসেবে হাজার হাজার যাত্রীকে বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার করেছে।

পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা

বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলের বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থাগুলো যাত্রীদের সহায়তায় নিবিড়ভাবে কাজ করছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা খোলার উপরই মূলত ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে। এই সংকটে প্রবাসী কর্মীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাত্রীরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।