চাঁদার দাবিতে প্রবাসীকে হত্যাচেষ্টা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এমপির পরিদর্শন
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় চাঁদার দাবিতে এক প্রবাসী যুবকের ওপর হত্যাচেষ্টা ও এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুরের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চন্দ্রপুর গ্রামের সালাম মেম্বারের বাড়ির সামনে এই হামলা সংঘটিত হয়। আহত ইমানুর রহমান মির্জাপুর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে, যিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন।
হামলার বিস্তারিত ও আহতের অবস্থা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমানুর রহমানের কাছে একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করে, যা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রপুর গ্রামে তার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের আফতাবের ছেলে সবুজ, মতিয়ারের ছেলে সুমন ও বুদোর ছেলে শামিমসহ পাঁচ থেকে ছয়জন এই হামলায় অংশ নেয়। তারা মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের মুখে ইমানুরকে ভয়ভীতি দেখায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইমানুরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বপন দাস জানান, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল, তবে বৃহস্পতিবার তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইমানুর রহমান নিজে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেছে, যা তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বাড়ি ভাঙচুর ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
হামলার ঘটনার পর মির্জাপুর গ্রামে আরও কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শওকত হোসেন অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তার ঘরের টিন, দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, ইমানুরের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত একই ব্যক্তিরা এই ভাঙচুরের ঘটনায়ও অংশ নিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কেউ কেউ পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন, কিন্তু এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমপি ও জামায়াত নেতাদের পরিদর্শন
বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলীম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক হারুনার রশিদ, নাভারন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সহানুভূতি জানান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছে। প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও চাঁদার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
