দালালের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যু, চট্টগ্রামের কিশোরের লাশ দেশে ফিরল
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর জোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ফাহাদ (১৮) দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। দালালের মাধ্যমে দুর্গম পথে যাওয়ার সময় দীর্ঘ পথযাত্রা, অনাহার ও চিকিৎসার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ গ্রামে ফাহাদের লাশ দাফন করা হয়েছে।
বাবার কান্নায় ভেঙে পড়া, ছেলের ছবি বুকে জড়ানো
লাশ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নূর মোহাম্মদ (৪৫) মুঠোফোনে ছেলের ছবি দেখে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলে চাকরির আশা নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে। ওরা আমার ছেলেকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল। এখন আমি ছেলে কই পাব।’ দুর্বল শরীর ও বিমর্ষ মুখ নিয়ে তিনি ছবি বুকে জড়িয়ে চুমু দিচ্ছিলেন, বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।
দালালের প্রতারণা ও দুর্গম যাত্রাপথ
৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকার পথে রওনা হন ফাহাদ। দালালেরা ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানের টিকিট দিলেও, এরপর তাঁকে জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সড়কপথে ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান তিনি। ওই দিন সকালে ছেলের পৌঁছানোর খবর পেয়েছিলেন নূর মোহাম্মদ, কিন্তু রাতেই মৃত্যুর সংবাদ আসে।
পরিবারের ধারণা, দীর্ঘ পথযাত্রা, অনাহার, অসুস্থতা ও চিকিৎসার অভাবেই ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ফাহাদকে ২০০ ডলার ও ব্যাগে শুকনা খাবার দিয়েছিলেন, কিন্তু জঙ্গলে সবকিছু ছিনতাই হয়ে যায়।
লাশ দেশে আনার উদ্যোগ ও জানাজা
মৃত্যুর পর ফাহাদের লাশ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মুসিনা শহরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামীমের সহযোগিতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। সকাল ১০টায় জোয়ারা ইউনিয়নের জামে মসজিদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্বজন ও এলাকার বিপুল মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ফাহাদকে।
দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও কৃতজ্ঞতা
নূর মোহাম্মদ বলেন, দালালেরা ইথিওপিয়া থেকে বিমানে না নিয়ে জঙ্গলের পথ বেছে নেওয়ায় তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মোহাম্মদ শামীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘শামীম ভাই না থাকলে ছেলের লাশটাও পেতাম না। দালালেরা লাশটি লুকিয়ে ফেলত।’ শামীম জানান, তিনি দালালকে সন্দেহ করে বাসায় গিয়ে ফাহাদের মরদেহ ও কাগজপত্র দেখে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এই ঘটনা প্রবাসী জীবনের ঝুঁকি ও দালাল চক্রের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে, যা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
